বৃহস্পতিবার ১১ জুন ২০২৬ - ০৯:৫৯
অহংকার কীভাবে মানুষকে আধ্যাত্মিক অধঃপতনের দিকে ঠেলে দেয়?

অহংকার এমন একটি নৈতিক ব্যাধি, যা মানুষের আত্মাকে কলুষিত করে এবং তাকে আল্লাহর নৈকট্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। অন্যদিকে, গুনাহ থেকে বিরত থাকা আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের অন্যতম প্রধান উপায়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী,  এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি মূল্যবান হাদিসের ব্যাখ্যায় শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ ইমাম খামেনেয়ী (রহ.) অহংকারের ক্ষতিকর পরিণতি এবং গুনাহ বর্জনের অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

সবচেয়ে ভারাক্রান্ত ও সবচেয়ে পরিশ্রমী মানুষ
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন—

أَمْقَتُ النَّاسِ الْمُتَكَبِّرُ، وَأَشَدُّ النَّاسِ اجْتِهَادًا مَنْ تَرَكَ الذُّنُوبَ

মানুষের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত হলো অহংকারী ব্যক্তি; আর মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাধনা ও চেষ্টা করে সে-ই, যে গুনাহ পরিত্যাগ করে।

আয়াতুল্লাহ ইমাম খামেনেয়ী (রহ.) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, অহংকার ও আত্মশ্রেষ্ঠত্ববোধ মানুষের ওপর পাপের এক ভারী বোঝা চাপিয়ে দেয়। কারণ, এই মানসিকতা মানুষকে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করতে এবং তাঁর বান্দাদের তুচ্ছজ্ঞান করতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে অহংকারী ব্যক্তি ধীরে ধীরে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পতনের গভীর খাদে নিমজ্জিত হয়।

তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন অধিক ইবাদত, নফল আমল বা দীর্ঘ সময় জিকির-আযকারে ব্যস্ত থাকাই আল্লাহর পথে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা। কিন্তু নবী করিম (সা.)-এর এই হাদিস জানিয়ে দেয় যে, গুনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করাই প্রকৃত মুজাহাদা এবং আল্লাহর পথে সবচেয়ে বড় সাধনা।

কেন গুনাহ বর্জন এত গুরুত্বপূর্ণ?
মানুষের ভেতরে প্রবৃত্তি, কামনা-বাসনা ও নফসের নানা তাড়না সবসময় তাকে গুনাহের দিকে আহ্বান করে। এসব প্রবণতার বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে নিজেকে সংযত রাখাই প্রকৃত আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির পরিচয়।

এ কারণেই আধ্যাত্মিক সাধনা ও আত্মগঠনের পথে যারা অভিজ্ঞ, তারা সবসময় প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গুনাহ বর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, পাপ থেকে দূরে না থাকলে ইবাদত, দান-সদকা, সৎকর্ম ও অন্যান্য নেক আমলের প্রভাব অনেকাংশেই ক্ষীণ হয়ে যায়।

ফুটো জলাধারের উপমা
গুনাহের ক্ষতিকর প্রভাব বোঝাতে তিনি একটি চমৎকার উপমা তুলে ধরেন। ধরুন, একটি জলাধারে বড় বড় পাইপ দিয়ে অবিরাম পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কিন্তু জলাধারটি কখনো পূর্ণ হচ্ছে না। কারণ, এর গায়ে ফাটল ও ছিদ্র রয়েছে, যেগুলো দিয়ে পানি বেরিয়ে যাচ্ছে।

মানুষের আত্মিক অবস্থাও অনেকটা এমন। সে যতই ইবাদত-বন্দেগি, দান-সদকা ও সৎকর্ম করুক না কেন, যদি গুনাহ থেকে বিরত না থাকে, তবে তার অন্তর নেকি ও কল্যাণে পরিপূর্ণ হতে পারে না। গুনাহ সেই ফাটলের মতো, যা নেক আমলের প্রভাবকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দেয়।

অতএব, আত্মশুদ্ধির পথে সর্বপ্রথম করণীয় হলো গুনাহের পথ বন্ধ করা। যখন মানুষ পাপ থেকে নিজেকে সংযত রাখতে সক্ষম হবে, তখনই তার ইবাদত, সৎকর্ম ও আধ্যাত্মিক সাধনা প্রকৃত ফল বয়ে আনবে এবং তার অন্তর আল্লাহর নৈকট্যে আলোকিত হবে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha